নাটোরের সিংড়া উপজেলায় মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। খোলাবাড়িয়া গ্রামের ফটিক সর্দারের মেয়ে সেতু খাতুনকে পার্শ্ববর্তী লাক্ষীকুড়ি এলাকার ইমান আলী দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাঘাটে ইভটিজিং করাসহ বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিত। বিষয়টি জানতে পেরে ফটিক সর্দার তার মেয়েকে বিরক্ত না করার জন্য ইমান আলীকে নিষেধ করেন।
ফটিক সর্দারের প্রতিবাদে ক্ষিপ্ত হয়ে ইমান আলী তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় ফটিক সর্দার রক্তাক্ত জখম হন এবং তার ডান হাত ভেঙে যায়। হামলার সময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দোষীরা পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত ফটিক সর্দার প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিংড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সাদিয়া সুলতানা জানান, আহত ফটিক সরদারের শরীরে বেশ কিছু আঘাত রয়েছে এবং তার ডান হাত ভেঙে গেছে। গুরুতর অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আহত ফটিক সরদার চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মামলার সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর অভিযুক্ত ইমান আলী ও তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পলাতক থাকার কারণে কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পরে ভুক্তভোগী পরিবার সিংড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নজরদারি করছে যাতে পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এই ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষও উদ্বিগ্ন এবং স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।
সংক্ষেপে, নাটোরের সিংড়ায় মেয়েকে উত্যক্ত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করায় বাবাকে মারধরের এই ঘটনা স্থানীয় সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উত্তেজনাপূর্ণ করেছে। পুলিশ লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
কসমিক ডেস্ক