ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জন্মদিন পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে রবিন (২৪) নামে এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় তার বন্ধু মাসুম (২৪) গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের মাজারবাড়ি রোড এলাকায়। নিহত রবিন পৌর শহরের শিলাসী কলাবাগান এলাকার মোফাজ্জল মিয়ার ছেলে। তিনি কান্দিপাড়া আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার রবিনের জন্মদিন ছিল। এ উপলক্ষে তার বন্ধুরা পৌর শহরের পশু হাসপাতাল রোডের বউ বাজার এলাকায় জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করে। সেখানে কেক কেটে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। জন্মদিন শেষে রবিন দ্রুত বাড়ি ফেরার জন্য তাগাদা দেন, কারণ তিনি মায়ের হাতে খাবার খেতে চেয়েছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষ করে রবিন তার বন্ধু মাসুমের মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে তারা বাড়ি থেকে প্রায় একশ মিটার দূরে মাজারবাড়ি রোড ও কলাবাগান রোডের মোড়ে পৌঁছালে একটি ভয়াবহ হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, মুখবাঁধা অজ্ঞাত ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে রবিন ও মাসুমের চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়, যাতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরপর দুর্বৃত্তরা রবিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তার বন্ধু মাসুমও আহত হন।
স্থানীয় লোকজন ও রবিনের স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রবিনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতের শেষ ভাগে তার মৃত্যু হয়।
রবিনের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মা শান্তা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার পুতেরে যারা খুন কইরা আমার বুক খালি করছে, তাগর কঠিন শাস্তি চাই।” পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে এবং তারা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে। তবে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি স্টিলের পাইপ ও লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক