পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামার প্রস্তুতি চলছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, সিলেটসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র যেমন পতেঙ্গা, পারকি ও গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকত, চিড়িয়াখানা, ডিসি পার্ক, মহামায়া লেক এবং ঝরনা এলাকাগুলোতে দর্শনার্থীদের বরণে চলছে সাজসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা জোরদার কার্যক্রম। ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি হেল্প ডেস্ক, ওয়াচ টাওয়ার এবং শিশু-মাতৃদুগ্ধ কর্নারের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
কক্সবাজারে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ঘিরে ইতোমধ্যে পর্যটকের আগমন শুরু হয়েছে। শহরের অধিকাংশ হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ ঈদ প্যাকেজ, ছাড় ও বাড়তি সেবা চালু করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বান্দরবানে নীলাচল, মেঘলা, চিম্বুক ও প্রান্তিক লেকসহ জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঈদের দিন বিনামূল্যে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে পর্যটক আগমন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ৬০-৬৫ শতাংশ অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।
রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি, কাপ্তাই হ্রদ ও ঝুলন্ত সেতু এলাকায় পর্যটকদের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রিসোর্ট ও কটেজগুলোর অধিকাংশই আগেই বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
অন্যদিকে কুয়াকাটায় এবার তুলনামূলকভাবে পর্যটকের সংখ্যা কম দেখা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ বুকিং হয়েছে, ফলে হোটেলগুলোতে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড়।
সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঈদের ছুটিতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক আসার আশা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
সার্বিকভাবে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক