নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 26, 2026 ইং
নাটোরের বড়াইগ্রামে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার ছবির ক্যাপশন: নাটোরের বড়াইগ্রামে ধর্ষণ মামলায় বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তারের পর থানার সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

নাটোর জেলার বড়াইগ্রামে (বড়াইগ্রাম) ৭ম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন হলেন সামসুল ইসলাম এবং তার ছেলে আরিফুল ইসলাম। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী ওই কিশোরী তাদের দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রতিবেশী হিসেবে পরিচিত ছিল এবং কিশোরীটি প্রায়ই তাদের দোকানে যাতায়াত করত। সেই সুযোগে তাকে একাধিকবার জোরপূর্বক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বসানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সালিশে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেখানে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও জমি দেওয়ার প্রস্তাবসহ বিয়ের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। তবে পরে ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি মেনে না নিয়ে থানায় মামলা দায়ের করে।

মামলা দায়েরের পরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে বাবা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং সামাজিক অব্যবস্থাপনা ও সালিশ ব্যবস্থার অপব্যবহারের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। গ্রাম্য পর্যায়ে এমন গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের ঘটনা শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্কুল ও মাদরাসা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগে কঠোরতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ কমানো সম্ভব।

পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দেশনেত্রীর কবর জিয়ারতে ফুল ও অশ্রুতে ভিজল শেরেবাংলা নগর

দেশনেত্রীর কবর জিয়ারতে ফুল ও অশ্রুতে ভিজল শেরেবাংলা নগর