তুরস্কের পর এবার মিশরও প্রায় দুই হাজার এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) যাত্রী বহনকারী একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীকে নিজেদের বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ‘অ্যাটলান্টিস ইভেন্টস’-এর ভাড়া করা এবং ‘ভার্জিন ভয়েজেস’ পরিচালিত স্কারলেট লেডি (Scarlet Lady) নামের ক্রুজ জাহাজটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে ভিড়তে পারেনি।
মিশরীয় কর্তৃপক্ষ জাহাজটির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেও এ সিদ্ধান্তের পেছনে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ প্রকাশ করেনি। ফলে যাত্রী ও আয়োজকদের মধ্যে বিস্ময় ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
১০ দিনের এই বিশেষ ক্রুজ ভ্রমণটি গ্রিসের এথেন্স থেকে ইতালির ভেনিস পর্যন্ত পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। যাত্রাপথে আলেকজান্দ্রিয়ায় যাত্রাবিরতির পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রীরা সকালে কেবিনে দেওয়া জরুরি নোটিশে জানতে পারেন, মিশরীয় জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার পরপরই জাহাজ পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ বিকল্প বন্দরের সন্ধান শুরু করে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান অ্যাটলান্টিস ইভেন্টসের প্রধান নির্বাহী রিচ ক্যাম্পবেল বলেন, গত বছর একই ধরনের ক্রুজ কোনো জটিলতা ছাড়াই মিশরে প্রবেশ করেছিল। তাই এবারের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।
এর আগে একই জাহাজকে তুরস্কও ইস্তাম্বুল ও কুসাদাসি বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। তুর্কি কর্তৃপক্ষ সে সময় ‘নৈতিক মূল্যবোধ’ এবং ‘জনসাধারণের উদ্বেগ’-এর কথা উল্লেখ করে জানায়, ক্রুজটির আয়োজকদের কার্যক্রম দেশটির সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কে সমকামিতা আইনগতভাবে অপরাধ না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অধিকার ও প্রকাশ্য কর্মসূচির ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রাইড মিছিল নিষিদ্ধ করা, অধিকারকর্মীদের আটক এবং সামাজিক চাপ বৃদ্ধির ঘটনাও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়েছে।
মিশরের সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রুজ শিল্পে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার, পর্যটন নীতি এবং বিভিন্ন দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক