উত্তর আমেরিকার দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা বর্তমানে ভয়াবহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়েছে, যা দেশটির জনজীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। পানির অভাব, দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গ্যাস ও জ্বালানির সংকট, পেট্রলপাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক বৈরিতার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে কিউবা যে সংকটের মুখে পড়েছে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ পরিস্থিতি। বিশেষ করে চলতি বছরে ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।
তেলের ঘাটতির কারণে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, ফলে দৈনন্দিন জীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে বহু পরিবার আবারও কাঠ ও কয়লা জ্বালিয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে রাত নামলেই অন্ধকার নেমে আসছে, আর মানুষ গরম থেকে বাঁচতে খোলা জায়গায় রাত কাটাচ্ছেন।
জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যবস্থাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পেট্রলপাম্পগুলোতে জ্বালানি নেই, ফলে রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকারি দোকানগুলোতে পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রায় এক কোটি মানুষ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করছেন।
এদিকে কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক উত্তেজনাও নতুন করে বেড়েছে। কিউবার সরকার বলছে, তারা কোনো যুদ্ধের পক্ষ নয় এবং দেশটিকে ঘিরে অযথা সামরিক উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অবরোধ, জ্বালানি নির্ভরতা এবং ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে কিউবা এখন গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক