স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলানোর চেষ্টা, পলাতক ইমাম গ্রেপ্তার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলানোর চেষ্টা, পলাতক ইমাম গ্রেপ্তার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 10, 2026 ইং
স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলানোর চেষ্টা, পলাতক ইমাম গ্রেপ্তার ছবির ক্যাপশন:

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করার অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি মো. মুহাসিন মাতুব্বর (৩২)। তিনি পূর্ব বালিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম এবং গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাহারা গ্রামের বাসিন্দা। নিহত আয়েশা আক্তার (২৮) মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পূর্ব বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তাদের সংসারে চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পিবিআই জানায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে স্ত্রীর পূর্ববর্তী দুটি বিয়ে নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও কলহ সৃষ্টি হতো।

তদন্তে জানা যায়, ঘটনার আগের রাতেও একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরদিন সকালে নাশতা প্রস্তুত না থাকা এবং স্ত্রী অসুস্থতার কথা জানালে আবারও ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মুহাসিন তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং গলা চেপে ধরেন। এ সময় দেয়ালের কাঠের পাটাতনে আঘাত লেগে আয়েশা আক্তারের মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। তবে সেটি সম্ভব না হওয়ায় মরদেহ খাটের ওপর ফেলে রেখে চার বছরের কন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

পরবর্তীতে নিহতের ভাই মো. শামীম তালুকদার টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই তদন্তে নামে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে গত ৮ জুলাই মো. মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আয়েশা আরা জাহান জানান, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহই হত্যার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। তবে ঘটনার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একজন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমামের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা চলছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সব দিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্যে শিবচরে রাজনৈতিক উত্তাপ

বিএনপিকে নিয়ে মন্তব্যে শিবচরে রাজনৈতিক উত্তাপ