আগামীকাল লালনের সুরে অমর কণ্ঠ ফরিদা পারভীনের জন্মদিন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আগামীকাল লালনের সুরে অমর কণ্ঠ ফরিদা পারভীনের জন্মদিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 30, 2025 ইং
আগামীকাল লালনের সুরে অমর কণ্ঠ ফরিদা পারভীনের জন্মদিন ছবির ক্যাপশন: লালনগীতির কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ফরিদা পারভীন
ad728

আগামীকাল ৩১ ডিসেম্বর। দিনটি বাংলাদেশের লোকসংগীতপ্রেমীদের কাছে আবেগ, স্মৃতি ও গভীর শ্রদ্ধার এক বিশেষ দিন। আগামীকাল পালিত হবে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ও লালনদর্শনের অন্যতম বাহক ফরিদা পারভীনের জন্মদিন। তবে এবারের জন্মদিনটি ভিন্ন। এটি হবে তাঁর মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিন। তাই এই দিনটি উৎসবের চেয়ে বেশি স্মরণ, শ্রদ্ধা ও নীরব ভালোবাসার।

ফরিদা পারভীন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলায়। গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবন, লোকসংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চেতনা তাঁর শৈশবেই গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর অনুরাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা একসময় তাঁকে নিয়ে যায় ফকির লালন শাহের দর্শনের গভীরে।

শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন মেধাবী ও মনোযোগী। কুষ্টিয়া অঞ্চলে পড়াশোনা শেষে কুষ্টিয়া গার্লস কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে। কৈশোর বয়সেই তাঁর কণ্ঠের গভীরতা ও আবেগ শ্রোতাদের দৃষ্টি কাড়ে।

১৯৬৮ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি রাজশাহী বেতারে নজরুলসংগীত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। এখান থেকেই তাঁর সংগীতজীবনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শুরুর দিকে নজরুলসংগীত ও আধুনিক গান গাইলেও একসময় তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করেন লালন শাহের গান ও দর্শনের কাছে।

লালনের গান ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে কেবল সুর হয়ে ওঠেনি, হয়ে উঠেছিল আত্মার ভাষা।
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’,
‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’,
‘সত্য বল সুপথে চল’—
এই গানগুলো তাঁর কণ্ঠে নতুন জীবন পায় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। এই অনন্য অবদানের কারণেই তিনি পরিচিতি পান “লালনকন্যা” নামে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেন।

২০২৫ সালে ফরিদা পারভীনের মৃত্যু বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে। তবে তাঁর কণ্ঠ থেমে গেলেও থেমে যায়নি তাঁর গান। লালনের মানবতাবাদী দর্শনকে তিনি যেভাবে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছেন, তাতেই তিনি হয়ে উঠেছেন চিরঅমর।

আগামীকাল তাঁর জন্মদিনে কোনো মঞ্চে তিনি থাকবেন না, কিন্তু তাঁর কণ্ঠ ভেসে উঠবে স্মৃতিতে, সুরে ও মানুষের হৃদয়ের গভীরে।
ফরিদা পারভীন নেই, কিন্তু লালনের সুরে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

দ্য ডেইলি কসমিক পোস্ট–এর পক্ষ থেকে এই মহান শিল্পীর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য : পিএনপ

জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য : পিএনপ