যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফর করে ঢাকা–ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
গত ৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের সফরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
এই সফরের আগে তিনি ভারত সফর করেছিলেন। ফলে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক গঠনমূলক থাকুক। পল কাপুর দুই দেশেই এই বার্তা দিয়েছেন।
বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নে জোর
পল কাপুরের সফরে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের করা বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের কিছু শুল্কনীতি বাতিল করার পর এই চুক্তি কার্যকর থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ঢাকা সফরে পল কাপুর স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও বাণিজ্যচুক্তি বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী শুল্ক ও বাণিজ্য নীতিতে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের উচিত দ্রুত চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু করা।
এই চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি, তৈরি পোশাক শিল্পে তুলা আমদানি এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গম ও সয়াবিন কেনার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অবৈধ অভিবাসন
ঢাকা সফরে অবৈধ অভিবাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন পল কাপুর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ওপর জোর দিয়েছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্র চায় আদালতে মামলা নিষ্পত্তির পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশে ফেরত পাঠানো হোক।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে চায়। এখন পর্যন্ত ৩২৭ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। তবে যাদের ফেরত পাঠানো হবে, তাদের মর্যাদা যেন ক্ষুণ্ন না হয়—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আশ্বাস চেয়েছে ঢাকা।
আঞ্চলিক সহযোগিতা
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পল কাপুরের সফরে বাংলাদেশের বাজারে মার্কিন ব্যবসা সম্প্রসারণ, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।
এ ছাড়া ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ইতিবাচক থাকুক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক।
কসমিক ডেস্ক