জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস শনিবার (৭ মার্চ) ঘোষণা করেছেন, শ্রমিক দলের কোনো নেতাকর্মী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবে না এবং করতেও দেবে না। প্রয়োজনে, কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও বেসিক ট্রেড ইউনিয়নের যৌথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিমুল বিশ্বাস বলেন, আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো যাত্রী হয়রানি, চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত ভাড়া বরদাশত করা হবে না।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, “দেশের শিল্প ও কলকারখানায় দীর্ঘদিন ধরে শূন্যপদ রয়েছে। শ্রমিক সমাজের কল্যাণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করার জন্য এসব শূন্যপদে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে।”
সভায় শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। তাদের মধ্যে ছিলেন ফয়েজ আহমেদ, আসাদুজ্জামান বাবুল, মফিদুল ইসলাম মোহন, দেলোয়ার হোসেন, সুমন ভূইয়া, কাজী শাহ আলম রাজা, বদরুল আলম সবুজ, কামরুল জামান, নাছরিন আক্তার দিনা, এম এ বারী, জাহাঙ্গীর হোসেন, মোর্শেদ আলম, ফরহাদ হোসেন বুলেট, আব্দুস সোবহান, মো. আলাউদ্দিন, আব্দুল মাজেদ, রফিকুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান মিন্টু, লুৎফন নাহার লতা, আবুল কালাম আজাদ, আবুল খায়ের খাজা, জাকির হোসেন, মেহেদী আলী খান, মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, ফিরোজ উজ জামান মামুন মোল্লা প্রমুখ।
শিমুল বিশ্বাস সভায় আরও বলেন, শ্রমিক সমাজের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শ্রমিক দল সব সময় সক্রিয় থাকবে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন, যাতে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অবাধ ভোটের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে দেশের শ্রমিক সমাজ অকুণ্ঠ সমর্থন জানাবে। শ্রমিক দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও সুসংগঠিত হওয়ার জন্য আমরা অব্যাহতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।”
শ্রমিক দলের এই অঙ্গীকার দেশের শিল্প ও শ্রমিক সম্প্রদায়ের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঈদ উৎসবের সময় যাত্রী ও শ্রমিকদের নিরাপদ পরিবহন সুবিধা প্রদানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংগঠনটি চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া এবং যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই সভা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং শ্রমিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিমুল বিশ্বাসের ঘোষণার মাধ্যমে শ্রমিক সমাজের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে যে, সংগঠন কোন প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহ্য করবে না এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগোবে।
শ্রমিক দলের এই প্রতিশ্রুতি শুধু ঈদযাত্রা বা স্বল্পকালীন পরিকল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের শ্রমিক সমাজের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং নৈতিকতা নিশ্চিত করতেই এটি কার্যকর হবে।
কসমিক ডেস্ক