ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের চমক তৈরি করেছেন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত নেতা ও সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা কে আন্নামালাই। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই নেতা দল ছাড়ার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) এক বক্তব্যে আন্নামালাই জানান, তিনি ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বরই দলকে পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তখন তাকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে দলীয় নেতৃত্ব তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
দল ছাড়ার পর আন্নামালাই বলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন, রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর স্বাতন্ত্র্য ও পরিচয়ের বিষয়টি তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দ্বৈত পরিচয়ের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন তাকে দীর্ঘদিন ধরে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল—তিনি কি আগে বিজেপির সদস্য, নাকি একজন তামিল নাগরিক।
তিনি আরও বলেন, গত প্রায় ১৮ মাস ধরে দলের কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে তার অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত তাকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধ্য করেছে।
আন্নামালাই তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তার মতে, ভারতের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার সময় এসেছে। এজন্য তিনি একটি নতুন নিবন্ধন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ নিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আজ থেকে আমরা সাধারণ মানুষের রাজনীতির নতুন প্রজন্মের ভিত্তি গড়ে তুলছি।” একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মানহানিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
বিজেপির পক্ষ থেকে তার পদত্যাগকে বড় কোনো ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি নাইনার নাগেন্দ্রন মন্তব্য করে বলেন, “দলের কোনো ক্ষতি হয়নি। ভারতীয় জনতা পার্টি বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।”
পদত্যাগের আগে আন্নামালাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-এর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছিল বলেও জানা যায়।
সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা তামিলনাড়ু বিজেপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি “সিংহাম” নামে পরিচিত ছিলেন। শক্ত অবস্থান ও সরাসরি বক্তব্যের কারণে তিনি তরুণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তবে এখন দলীয় রাজনীতি থেকে সরে এসে তিনি স্বাধীন রাজনৈতিক পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্ত তামিলনাড়ুর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
কসমিক ডেস্ক