দেশের রপ্তানি আয় টেকসইভাবে বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে নিয়মিত মূল্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ, সম্প্রসারণ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রপ্তানি আয় পর্যালোচনা’ শীর্ষক সভায় এ বিষয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
সভায় বাণিজ্য সচিব বলেন, দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান বাজারে অবস্থান সুসংহত করার পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, এখন থেকে নিয়মিতভাবে গত পাঁচ বছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জনের তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করা হবে। পাশাপাশি মাসভিত্তিক রপ্তানি অগ্রগতি, পণ্য ও সেবাভিত্তিক রপ্তানি পরিস্থিতি, বিভিন্ন খাতের অর্জন এবং বিদেশে অবস্থিত বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হবে।
সভায় রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিতকরণ, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা, প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান এবং বিদ্যমান বাজার ধরে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া হালাল পণ্যসহ নতুন সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর কৌশল নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্য-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, রপ্তানি পরিবহনে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং কার্যকর বাণিজ্য চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ও সভার আলোচ্যসূচিতে স্থান পায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ করতে মিশনভিত্তিক প্রতিবেদন নিয়মিত মূল্যায়ন, নতুন পণ্য ও বাজার অনুসন্ধান, ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) ম্যাচমেকিং কার্যক্রম জোরদার, বাণিজ্যিক অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের সুযোগ যাচাইয়ের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় দেশে ও বিদেশে গত তিন বছরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বাণিজ্য মেলার পরিসংখ্যান, অংশগ্রহণের হার, রপ্তানি ক্রয়াদেশ প্রাপ্তির তথ্য এবং এসব আয়োজনের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় আশা প্রকাশ করা হয়, আলোচনায় উঠে আসা সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ কৌশল প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কসমিক ডেস্ক