সংস্কারের পর দ্রুত খুলে দেওয়া হবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সংস্কারের পর দ্রুত খুলে দেওয়া হবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 5, 2026 ইং
সংস্কারের পর দ্রুত খুলে দেওয়া হবে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামের জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাদুঘরটি আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ করা হবে।

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জিয়া স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সংলগ্ন জাদুঘরটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান

মন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের “প্রতিহিংসার রাজনীতি”র কারণে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, জাদুঘরটিকে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে এর ভেতরে থাকা ঐতিহাসিক নিদর্শন ও জিয়াউর রহমানের ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কার কাজ সহজভাবে সম্পন্ন করার জন্য জাদুঘরের কয়েকটি কক্ষ বর্তমানে খালি রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হলে এটি নতুনভাবে সাজিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মেজর জিয়া থেকে রাষ্ট্রপতি জিয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার স্বাধীনতার ঘোষণা, যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং “বীর উত্তম” খেতাব অর্জন দেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার তার অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করেছে, যা তিনি “দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করেন। মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে জিয়ার স্মৃতি সংরক্ষণে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি জানান।

পরিদর্শনকালে তিনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত ‘জিয়া স্বাধীনতা কমপ্লেক্স’ নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, অতীতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে এই স্থাপনার নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এটিকে পুনরায় “জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স” হিসেবে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, জাদুঘর এবং জিয়া মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স—উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশের সঠিক ইতিহাস জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইতিহাস না জানলে একটি জাতি সঠিকভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে না।

তিনি জানান, ভূমিকম্পের কারণে জাদুঘরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দ্রুত সংস্কার করা হবে। কাজ শেষ হলে দর্শনার্থীদের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন বন্ধ ও অবহেলিত থাকা চট্টগ্রামের এই ঐতিহাসিক জাদুঘরটি নতুন করে সংস্কারের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার সরকারি উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত সংস্কার শেষ হলে এটি আবারও পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্যে পরিণত হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে ১,০৫১ নির্বাহী ম্যাজ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে ১,০৫১ নির্বাহী ম্যাজ