সিলেটের একাধিক সংসদীয় আসনে প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা প্রকাশ্যে অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় শিশু–কিশোর ও নারীদের ব্যবহার এবং ধর্মের অপব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে দলটি।
শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের কাজীটুলা উঁচাসড়কে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। সিলেট–১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় একটি রাজনৈতিক দল নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে অর্থ বিতরণ করে ভোট কেনার চেষ্টা করছে। এসব ঘটনার তথ্য ও প্রমাণ স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বিএনপির অভিযোগ, একটি দল শিশু–কিশোরদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করছে এবং প্রকাশ্য জনসভায় ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটারদের বেহেশতের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এ ছাড়া সিলেট নগর ও সদর উপজেলার কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়ার কথাও জানানো হয়। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রতিপক্ষের সমর্থকেরা নির্বাচন কমিশনের গোপনীয় ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা প্রদর্শন ও বিতরণ করছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, এই তালিকা কেবল নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত—কোনো প্রার্থী বা সমর্থকের এটি সংগ্রহ বা বিতরণের অধিকার নেই।
বিএনপির নেতারা বলেন, জেলার কয়েকটি এলাকায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্তত তিনটিতে বহিরাগতদের অস্বাভাবিক আনাগোনা বেড়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে অবৈধ ব্যালট পেপার, সিল ও কালি উদ্ধারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এসব বিষয়ে ইতিমধ্যে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করেই একটি গোষ্ঠী অপপ্রচার ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে, যা শুধু একটি দল নয়—দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
কসমিক ডেস্ক