রক্ত, যুদ্ধ আর ফুটবল: ক্রোয়েশিয়ার অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ যাত্রা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রক্ত, যুদ্ধ আর ফুটবল: ক্রোয়েশিয়ার অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ যাত্রা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 10, 2026 ইং
রক্ত, যুদ্ধ আর ফুটবল: ক্রোয়েশিয়ার অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ যাত্রা ছবির ক্যাপশন:

বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে অনেক বিস্ময়কর দল এসেছে, অনেক রূপকথা লেখা হয়েছে। কিন্তু ১৯৯৮ সালের ক্রোয়েশিয়ার গল্পটি আলাদা। কারণ এটি কেবল একটি ফুটবল দলের সাফল্যের কাহিনি নয়; এটি একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতির পুনর্জন্ম, আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার ইতিহাস।

মাত্র কয়েক বছর আগেও দেশটি ছিল রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যে। যুগোস্লাভিয়া ভেঙে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে ক্রোয়েশিয়াকে মূল্য দিতে হয়েছিল হাজারো প্রাণের বিনিময়ে। স্বাধীনতা যুদ্ধের ক্ষত তখনও শুকায়নি, বহু পরিবার স্বজন হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছিল। এমন এক বাস্তবতায় ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেয় ক্রোয়েশিয়া।

দলের অনেক খেলোয়াড়ই বড় হয়েছেন অখণ্ড যুগোস্লাভিয়ার পরিচয়ে। জভোনিমির বোবান, স্লাভেন বিলিচ, ইগর স্তিমাচ, রবার্ট প্রোসিনেস্কি কিংবা ডেভর সুকার—তারা সবাই ছিলেন এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধি, যারা রাজনৈতিক অস্থিরতা, জাতিগত বিভাজন এবং যুদ্ধের নির্মমতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন।

বিশ্বকাপে তাদের যাত্রা শুরু হয় আত্মবিশ্বাস নিয়ে। গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে তারা নিজেদের শক্তির জানান দেয়। দলের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠেন ডেভর সুকার। গোলের সামনে তার অসাধারণ দক্ষতা ক্রোয়েশিয়াকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এগিয়ে নিয়ে যায়।

রোমানিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর তাদের সামনে দাঁড়ায় শক্তিশালী জার্মানি। অনেকেই ক্রোয়েশিয়াকে আন্ডারডগ হিসেবে দেখলেও মাঠের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুর্দান্ত ফুটবল খেলে জার্মানিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয় ক্রোয়াটরা। সেই জয় শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের ফল ছিল না; এটি ছিল বিশ্বকে জানিয়ে দেওয়া যে নতুন এই রাষ্ট্রকে আর অবহেলা করার সুযোগ নেই।

সেমিফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটি আজও ক্রোয়েশিয়ানদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। ডেভর সুকারের গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় তারা। ফাইনাল হাতছাড়া হলেও দলের লড়াই, সাহস এবং আত্মত্যাগ ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে নেয়।

পরবর্তীতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জেতে ক্রোয়েশিয়া। ডেভর সুকার টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে জিতে নেন গোল্ডেন বুট। মাত্র চল্লিশ লাখ মানুষের একটি দেশ বিশ্বকাপের মঞ্চে যে কীর্তি গড়েছিল, তা তখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৯৮ সালের সেই দল শুধু একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেনি, ভবিষ্যৎ ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলের ভিত্তিও গড়ে দিয়েছিল। দুই দশক পরে লুকা মদ্রিচদের নেতৃত্বে ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ক্রোয়েশিয়ার পেছনেও ছিল সেই প্রজন্মের অবদান। তাদের দেখানো পথ ধরেই বিশ্ব ফুটবলের অভিজাত কাতারে জায়গা করে নেয় দেশটি।

ফুটবলের পরিসংখ্যান বলবে, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু আবেগ, সংগ্রাম এবং একটি জাতির আত্মপ্রকাশের গল্পের দিকে তাকালে ক্রোয়েশিয়ার নামও সমান উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কারণ তারা প্রমাণ করেছিল, কখনও কখনও ফুটবল শুধু খেলা নয়—এটি একটি জাতির স্মৃতি, পরিচয় এবং অস্তিত্বের প্রতীক।

সেই কারণেই ১৯৯৮ সালের ক্রোয়েশিয়া আজও কেবল একটি ফুটবল দল নয়; তারা ইতিহাসের অংশ, এক অমর প্রতীক।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
খামেনিকে আমি মেরেছি, ট্রাম্পের সাহসী বক্তব্য

খামেনিকে আমি মেরেছি, ট্রাম্পের সাহসী বক্তব্য