জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এবার বিদ্যুতের দামও বাড়িয়েছে সরকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এ মূল্যহার ঘোষণা করেছে, যা চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন—সব পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন ঘোষণায় গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। এতে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য ইউনিটপ্রতি ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে পাইকারি মূল্য ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন স্তরে নতুন ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে। লাইফলাইন গ্রাহকদের (০–৫০ ইউনিট) ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে। এতে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের মাসিক বিল গড়ে প্রায় ৩৫ টাকা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে যারা ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তাদের ক্ষেত্রে মাসিক বিল প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাণিজ্যিক, শিল্প ও অন্যান্য খাতে বিদ্যুতের দাম আরও বেশি হারে সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, আগের অর্ডারের ভিত্তিতে তৈরি করা পণ্যের খরচ এখন বেড়ে যাবে, যা তাদের জন্য চাপ তৈরি করবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে। তাদের মতে, এর ফলে পরিবহন খরচ বাড়বে, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি পেতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্যের ওপরও চাপ সৃষ্টি হবে।
অন্যদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বাজেট ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দ্রুত এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তবে এর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে—এ বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খরচের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতিকে আরও তীব্র করতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে জনজীবনের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
কসমিক ডেস্ক