নেত্রকোনার Durgapur উপজেলায় চোরাচালানের মাধ্যমে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চোরাচালানবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. শফিকুল ইসলাম (৩৬)। তিনি পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের গুনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তার হেফাজত থেকে ৮০ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের পূর্ব মাকরাইল এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। পরে বস্তাগুলো খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ রাখা রয়েছে।
জব্দ করা মদের মধ্যে ‘ম্যাকডুয়েলস লাক্সারী ব্লেন্ডেড হুইসকি’ এবং ‘আইস ভদকা’সহ একাধিক পরিচিত ব্র্যান্ডের বোতল রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব মদ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে দেশে আনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে মদ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিলেন। তবে এ ঘটনায় তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি খন্দকার শাকের আহমদ বলেন, “মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধ মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাঝে মধ্যেই এ ধরনের চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ভারতীয় মদসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য গোপনে দেশে প্রবেশ করে এবং পরে তা বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত নজরদারি বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অবৈধ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুরে পরিচালিত এই অভিযান মাদক ও চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে।
কসমিক ডেস্ক