জাতীয় দলের নির্বাচক পদে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সব মিলিয়ে দুজন নির্বাচক নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৮ মার্চের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিসিবির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আবেদনকারীদের অবশ্যই প্রথম শ্রেণি বা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে কমপক্ষে ১০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীদের বিচারিক ক্ষমতা, বিশ্লেষণ দক্ষতা এবং কার্যকর যোগাযোগের সক্ষমতা থাকা আবশ্যক। অর্থাৎ কেবল মাঠের অভিজ্ঞতা নয়, দল গঠনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মূল্যায়ন ক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাচকদের চুক্তির মেয়াদ হবে দুই বছর। তাদের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে জাতীয় দল ও ‘এ’ দলের জন্য খেলোয়াড় নির্বাচন। এছাড়া ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকা পাইপলাইনের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় মূল্যায়নও তাদের দায়িত্বের আওতায় থাকবে। অর্থাৎ সিনিয়র দল গঠনের পাশাপাশি তরুণ প্রতিভা খুঁজে বের করাও নির্বাচকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হবে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, হান্নান সরকার এবং আব্দুর রাজ্জাক দুই বছরের জন্য একযোগে নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে এক বছরের মধ্যেই পরিবর্তন শুরু হয়। হান্নান সরকার দায়িত্ব ছাড়েন প্রথমে। পরে গত অক্টোবরে বিসিবির নির্বাচনে অংশ নিয়ে পদত্যাগ করেন আব্দুর রাজ্জাকও। এরপর প্রধান নির্বাচক লিপুকে সহায়তা করতে হাসিবুল হোসেন শান্তকে নির্বাচক হিসেবে যুক্ত করা হয়।
গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। বিসিবি তার সঙ্গে চুক্তি অব্যাহত রাখার বিষয়ে শুরুতে ইতিবাচক থাকলেও পারিবারিক জটিলতার কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন তিনি। বোর্ড বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও আরও এক মাস দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়েছে তাকে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লিপু এবং রাজ্জাকের স্থলাভিষিক্ত করতেই নতুন করে দুজন নির্বাচক নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি। বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নতুন নির্বাচকদের মধ্যে একজন প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতীয় দলের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক খেলোয়াড় নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর। তাই এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহল। নির্বাচক প্যানেলে স্থিতিশীলতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় দল গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিসিবির নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী ৮ মার্চের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নির্বাচকদের নাম ঘোষণা করবে।