ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ড’ নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সাধারণ দলিল লেখকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
সোমবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে ৩৬ জন দলিল লেখক স্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগটি জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি অবৈধ সমিতির নামে সিন্ডিকেট তৈরি করে সাধারণ মানুষ ও দলিল লেখকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর ধরে এই ধরনের কার্যক্রম চললেও সম্প্রতি আবার নতুন করে কিছু ব্যক্তি নিজেদের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব দাবি করে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। তারা ‘কল্যাণ ফান্ড’-এর নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলিল লেখকদের মতামত ছাড়াই একটি একতরফা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে ফারুক হোসেন এবং সদস্য সচিব হিসেবে আজিজুল লস্করের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এই কমিটি গঠন করেছেন।
সম্প্রতি একটি তালিকা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের হার উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, হেবা, পাওয়ার ও বণ্টননামা দলিলের ক্ষেত্রে প্রতি শতকে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া কোবলা দলিলের ক্ষেত্রে জমির মূল্যের ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এক লাখ টাকার জমিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে এক কোটি টাকার জমিতে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে, যা সরকারি ফি’র বাইরে সম্পূর্ণ অবৈধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক জানান, অতীতে একই ধরনের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরণের চাঁদাবাজি পুনরায় চালুর চেষ্টা চলছে।
দলিল লেখক আব্দুল আরিফ বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছেন এবং নতুন করে আবার একই সমস্যা শুরু হওয়ায় উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, তারা কোনো সমিতি চান না, কারণ সমিতির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।
আরেক দলিল লেখক ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, তারা নিজেরাও অতিরিক্ত টাকা নিতে চান না এবং কোনো অবৈধ ফান্ডে অর্থ দিতে রাজি নন। এ কারণেই তারা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কথিত ফান্ডের আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয় এবং কেউ হয়তো তাদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, সরকারি ফি’র বাইরে কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, কয়েকজন দলিল লেখক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সব মিলিয়ে, কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এই অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশাসনের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।
কসমিক ডেস্ক