উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক শীর্ষ সম্মেলনে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের উত্তর কোরিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ।
সম্মেলনে দুই নেতা ভবিষ্যতে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হন এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে কিম জং উন চীনের ‘এক চীন নীতি’র প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যমের উপস্থাপনায় ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া বাণিজ্য, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের মতো বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে কেসিএনএ এই বৈঠককে সমকক্ষ দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে চীনের ওপর নির্ভরশীল নয় বরং সমান মর্যাদার শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান ও তাইওয়ান ইস্যুও গুরুত্ব পেয়েছে, তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়।
শি জিনপিং বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক এখন একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনায় দাঁড়িয়ে আছে। তিনি দুই দেশের মৈত্রী চুক্তির ৬৫তম বার্ষিকীতে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সফরকালে কিম জং উন ও তার স্ত্রী চীনা প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের বাণিজ্য, পর্যটন ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা, যেখানে চীন এখনো উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অবস্থান করছে।
কসমিক ডেস্ক