চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ পরিবারের পাঁচটি বসতঘর পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) গভীর রাতে উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ডাক্তার আব্দুল মাসুদ খানের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ঘরবাড়ির পাশাপাশি আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় ১টার দিকে হঠাৎ করে বাড়িটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে আগুনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান।
তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় স্থানীয়দের পক্ষে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মাহফুজ রিবেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আশপাশের আরও কয়েকটি বসতঘর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
তবে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাঁচ পরিবারের পাঁচটি কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন মৃত সোলাইমানের পরিবার, মৃত সিরাজের পরিবার, মো. সেলিম, মো. রিয়াজ এবং হুমায়নের পরিবার। আগুনে তাদের ঘরবাড়ির পাশাপাশি আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা সামগ্রী ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের ১০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। হাটহাজারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিয়াজ মোর্শেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুর্গতদের মধ্যে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের উৎস এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে।
কসমিক ডেস্ক