জন্মগতভাবে কানবিহীন বাংলাদেশি শিশুর সফল অস্ত্রোপচার ভারতে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জন্মগতভাবে কানবিহীন বাংলাদেশি শিশুর সফল অস্ত্রোপচার ভারতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 7, 2026 ইং
জন্মগতভাবে কানবিহীন বাংলাদেশি শিশুর সফল অস্ত্রোপচার ভারতে ছবির ক্যাপশন:

জন্মগতভাবে বহিঃকর্ণ ও কর্ণনালী ছাড়াই জন্ম নেওয়া সাত বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কন্যাশিশুর সফল বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট (Bone Conduction Implant) সম্পন্ন হয়েছে ভারতের কলকাতার সিএমআরআই সিকে বিড়লা হাসপাতালে। আধুনিক এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটি প্রথমবারের মতো স্বাভাবিকভাবে শুনতে পারার আশা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অন্তঃকর্ণ (Inner Ear) স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও বহিঃকর্ণ, কর্ণনালী এবং কানের পর্দা না থাকায় শব্দ অন্তঃকর্ণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছিল না। ফলে সে সম্পূর্ণরূপে শ্রবণশক্তিহীন ছিল।

গত সপ্তাহে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথার খুলির হাড়ের নিচে একটি চৌম্বকীয় (ম্যাগনেটিক) অভ্যন্তরীণ ইমপ্লান্ট বসানো হয়েছে। ক্ষত সম্পূর্ণ সেরে উঠলে প্রায় তিন সপ্তাহ পর একটি বাহ্যিক সাউন্ড প্রসেসর সংযুক্ত করা হবে, যা চারপাশের শব্দ সংগ্রহ করে অভ্যন্তরীণ ইমপ্লান্টে পাঠাবে এবং সেখান থেকে শব্দের কম্পন সরাসরি অন্তঃকর্ণে পৌঁছে যাবে।

অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের ওটোলজিস্ট ও কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জন ডা. এনভিকে মোহন। তিনি জানান, এটি কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট নয়; বরং এমন রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হয় যাদের অন্তঃকর্ণ সুস্থ থাকলেও শব্দ পরিবহনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত থাকে।

ডা. মোহনের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির কর্ণনালী পুনর্গঠন সম্ভব হলেও তাতে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতো এবং সফলতার নিশ্চয়তা কম ছিল। তাই চিকিৎসক দল বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্টকেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বেছে নেয়।

এই প্রযুক্তিতে মাথার খুলির হাড়ে একটি ছোট টাইটানিয়াম ইমপ্লান্ট স্থাপন করা হয়। বাহ্যিক প্রসেসরের মাইক্রোফোন আশপাশের শব্দ সংগ্রহ করে সেটিকে ডিজিটাল সংকেত বা কম্পনে রূপান্তর করে অভ্যন্তরীণ ইমপ্লান্টে পাঠায়। এরপর সেই কম্পন সরাসরি খুলির হাড়ের মাধ্যমে কক্লিয়ায় পৌঁছে যায়। ফলে কর্ণনালী বা কানের পর্দা ছাড়াই রোগী শব্দ শুনতে পারেন।

চিকিৎসকদের মতে, বাহ্যিক সাউন্ড প্রসেসরটি একটি ছোট চৌম্বকীয় ডিভাইসের মতো, যা সহজেই খুলে রাখা যায়। গোসল, ঘুম বা প্রয়োজন অনুযায়ী এটি খুলে রাখা সম্ভব।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ভবিষ্যতে শিশুটির বহিঃকর্ণ বা পিনা (Pinna) পুনর্গঠন কিংবা কৃত্রিম কান প্রতিস্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে বর্তমানে চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য হলো শিশুটিকে স্বাভাবিকভাবে শুনতে সক্ষম করে তোলা।

অস্ত্রোপচারের পর শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তিন সপ্তাহ পর পুনরায় হাসপাতালে এনে বাহ্যিক সাউন্ড প্রসেসর সংযুক্ত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে তার শ্রবণক্ষমতা মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক বোন কন্ডাকশন ইমপ্লান্ট প্রযুক্তি জন্মগত কানের গঠনগত ত্রুটিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ঈদুল আজহার ছুটি কমালো পশ্চিমবঙ্গ সরকার, শুরু বিতর্ক

ঈদুল আজহার ছুটি কমালো পশ্চিমবঙ্গ সরকার, শুরু বিতর্ক