উপকূলীয় মোংলায় সুপেয় পানির সংকট নিয়ে নাগরিক সংলাপ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

উপকূলীয় মোংলায় সুপেয় পানির সংকট নিয়ে নাগরিক সংলাপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 2, 2026 ইং
উপকূলীয় মোংলায় সুপেয় পানির সংকট নিয়ে নাগরিক সংলাপ ছবির ক্যাপশন:

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল মোংলায় সুপেয় পানির সংকট দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। এই সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন, ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স-এর যৌথ উদ্যোগে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা সংলাপে অংশ নেন এবং পানিসংকট মোকাবিলায় বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

সংলাপটি সঞ্চালনা করেন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম মোংলার সভাপতি ও পরিবেশকর্মী মো. নূর আলম শেখ। এছাড়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স-এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মণ্ডল, উন্নয়নকর্মী তৃপ্তি সরদার এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুবহা তালহা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপসচিব আলমগীর হুসাইন, মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহীন হোসেন, মোংলা থানার ওসি মো. আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় মোংলা অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানির উৎস সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বরং স্থানীয় জনগণ, বেসরকারি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, আধুনিক পানি শোধন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং বিকল্প পানির উৎস খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা বলেন, সুপেয় পানির সংকট নিরসন এখন সময়ের দাবি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

নাগরিক সংলাপটি শেষ হয় উপকূলীয় অঞ্চলের পানিসংকট নিরসনে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকারের মাধ্যমে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও কার্যকর নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান মির্জা আব্

আওয়ামী লীগের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান মির্জা আব্