ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে সফল চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে। তার বার্ষিক মেডিকেল রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তার শরীরে একটি ছোট টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা দ্রুত সেটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। তবে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান নেতানিয়াহু।
৭৬ বছর বয়সী এই ইসরায়েলি নেতা বলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই তথ্য প্রকাশে বিলম্ব করেছিলেন। তার ভাষায়, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে এমন একটি সংবাদ প্রকাশ করতে তিনি চাননি, যাতে বিভ্রান্তি বা নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলকে ঘিরে যেন কোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও তিনি সতর্ক ছিলেন।
এর আগে ২০২৪ সালে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি অস্ত্রোপচার করান। সেই সময় থেকেই তিনি নিয়মিত চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে ছিলেন। সর্বশেষ পরীক্ষার সময় নতুন করে টিউমার শনাক্ত হয়, যা প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ায় দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, তার চিকিৎসার অংশ হিসেবে রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও ঠিক কবে এই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে চিকিৎসকদের মতে, রোগটি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অথবা পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাদাসাহ হাসপাতাল-এর অনকোলজি ইউনিটের পরিচালক আহরন পোপোভৎসার জানান, নেতানিয়াহুর রোগটি প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়েছিল, যা চিকিৎসার জন্য একটি ইতিবাচক দিক। তিনি বলেন, এই বয়সী পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যান্সার একটি সাধারণ সমস্যা হলেও সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা করা গেলে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
নেতানিয়াহুর স্বাস্থ্য নিয়ে এর আগে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার সময়। সে সময় বিভিন্ন মাধ্যমে তার মৃত্যু নিয়ে ভুয়া তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
এই গুজব খণ্ডন করতে তিনি মার্চ মাসে জেরুজালেমের একটি ক্যাফেতে গিয়ে নিজের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। এর মাধ্যমে তিনি জনসাধারণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে তিনি সুস্থ আছেন এবং দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য অনেক সময় কৌশলগতভাবে গোপন রাখা হয়, বিশেষ করে সংকটময় সময়ে। নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও একই কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়া এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার কারণে তিনি এখন সুস্থ আছেন—এটি তার নেতৃত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
কসমিক ডেস্ক