কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে পৃথক দুটি কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
প্রথম ঘটনায় মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান লুডি ২০ নম্বর রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩৩ নম্বর ভোটকেন্দ্রে অন্য প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আটক হন। সেনাবাহিনী তাকে কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
দ্বিতীয় ঘটনায় ২৪ নম্বর ব্রাহ্মণচর নয়োগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২৯ নম্বর কেন্দ্রের বাইরে ভোট প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নগদ অর্থ বিতরণের অভিযোগ ওঠে। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদককে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২৭ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে।
মেঘনা উপজেলা সেনাবাহিনী ক্যাম্প থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেনা সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়রা জানান, ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন প্রার্থীর এজেন্টদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। কিছু এলাকায় ভোটপ্রদানের সময় প্রশাসনিক সহায়তায় শান্তি বজায় রাখা হয়েছে। তবে কেন্দ্রের বাইরে অর্থ বিতরণ ও বাধা প্রদান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সেনাবাহিনী বলেছে, ভোটের স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা সকল ধরনের অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আটককৃত নেতাদের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনাগুলো নির্বাচনের দিন ভোটারদের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছেন যাতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে।
মেঘনা উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র এবং ভোটারের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, অনিয়ম বা বাধাপ্রদানের মতো কোনো ঘটনায় তারা ছাড় দেবেন না।
এ ঘটনার মাধ্যমে ভোটের সময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরা হলো। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সেনা বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপ অপরিহার্য।