বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও কমানো হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও কমানো হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 1, 2026 ইং
বিশ্ববাজারে দাম কমলে দেশেও কমানো হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

দেশে জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমনে উদ্বেগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা ও আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেই দেশের বাজারেও দ্রুত সেই প্রভাব প্রতিফলিত করা হবে।

সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য সমন্বয় করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে প্রতি মাসেই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের একটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তবে মে মাসে এই সমন্বয় হয়নি, যার ফলে আগের মাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার মূল্য নির্ধারণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, প্রতি মাসে মূল্য সমন্বয় করা হয়। মে মাসে তা হয়নি, তাই আগের সমন্বয়ের প্রভাব এবার পড়েছে।”

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, “একান্ত যখন উপায়হীন হয়ে পড়ে, তখনই সরকার এমন অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। মিডল ইস্ট ক্রাইসিসের কারণে এই বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।”

জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিজেলের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৬৬ শতাংশই ডিজেল। এই খাতে সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি দিতে হয়। সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব কমানোর জন্য এবারও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য জ্বালানিতে আংশিক সমন্বয় করতে হয়েছে।

সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল ছাড়া অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে, যা ১ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪৫ টাকা, পেট্রল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে বাজেটকে সামনে রেখে। ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়বে নাকি কমবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও দ্রুত দাম কমানো হবে।

তিনি আরও বলেন, “মানুষের অতীত অভিজ্ঞতা হয়তো সুখকর নয়, কারণ দাম বাড়ার তুলনায় কমার হার কম থাকে। তবে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব এবং জনগণের কষ্ট লাঘবে কাজ করব।”

সরকারের দায়বদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই দায়বদ্ধতা থেকেই ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সবশেষে বলা যায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন। তবে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এখন সবার নজর বিশ্ববাজারের দিকে—সেখানকার পরিবর্তনই নির্ধারণ করবে দেশের জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ মূল্য।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল বন্দরে কার্যক্রম স্থগিত

১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল বন্দরে কার্যক্রম স্থগিত