চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে সাগরে ডুবে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত এলাকায়। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. মেহেরাজ (১৯)। তিনি চট্টগ্রাম এম.ই.এস কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি রাজশাহীর আমতলী থানার এলাকায় হলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ী এলাকার গাজী ডিপো বাই লেইন এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
ঘটনার সময় মেহেরাজ তার বন্ধু সাব্বিরের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। তারা দুইজনই মে দিবসের ছুটিতে সীতাকুণ্ডের সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মেহেরাজ সাগরের ঢেউয়ের কাছে গিয়ে পানিতে নামেন। কিন্তু তিনি সাঁতার জানতেন না। এ সময় হঠাৎ করে সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় তিনি পানিতে তলিয়ে যান।
এ দৃশ্য দেখে তার বন্ধু সাব্বির তাকে বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ দেন। তবে উত্তাল সাগরের কারণে তিনিও বিপদের মুখে পড়েন। পরে স্থানীয় জেলেরা বিষয়টি লক্ষ্য করে দ্রুত একটি নৌকা নিয়ে সেখানে পৌঁছান এবং সাব্বিরকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আনোয়ার বলেন, দুই বন্ধু সৈকতে ঘুরতে এসেছিলেন। হঠাৎ করে মেহেরাজ পানিতে নেমে গেলে বড় ঢেউয়ে তিনি তলিয়ে যান। পরে তার বন্ধু তাকে বাঁচাতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে মেহেরাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে বাঁশবাড়িয়া সৈকতে মেহেরাজ পানিতে নেমে সাঁতার না জানার কারণে ডুবে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয়রা সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব পর্যটক সাঁতার জানেন না, তাদের জন্য সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এদিকে মেহেরাজের মৃত্যুতে তার পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক প্রতিভাবান তরুণ শিক্ষার্থীর এভাবে অকাল মৃত্যু সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, আনন্দঘন ভ্রমণ মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও সমুদ্রসৈকতের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। এখন সবার প্রত্যাশা—এ ধরনের ঘটনা রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক