দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৯টার মধ্যে দেশের অন্তত ১৬ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মৌলভীবাজার, সিলেট, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার কিছু স্থানে এই ঝড় আঘাত হানতে পারে। এসব এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, এর আগে সাড়ে ৫টার দিকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছিল, দেশের কেন্দ্রীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইতিমধ্যে বজ্রপাত শুরু হয়েছে। এই বজ্রবৃষ্টির সিস্টেম ধীরে ধীরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। ফলে নতুন করে আরও কয়েকটি জেলায় ঝড়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বজ্রপাতের ঝুঁকি বিবেচনায় সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা, গাছের নিচে বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কালবৈশাখীর সময় বজ্রপাতই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, তাই সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিকেল থেকেই বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়েছে। আকস্মিক এই আবহাওয়ার পরিবর্তনে জনজীবন কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মাঠে থাকা কৃষক ও খোলা জায়গায় থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বজ্রাঘাতে এ পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় তিনজন এবং ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও পঞ্চগড়ে একজন করে নিহত হয়েছেন। এসব মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রতি বছরই বৈশাখ ও প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতজনিত মৃত্যু উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং আবহাওয়ার অনিয়মিত আচরণের কারণে এ ধরনের ঝড় আরও ঘন ঘন হচ্ছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বজ্রপাত থেকে রক্ষায় সচেতনতা বাড়ানো, খোলা মাঠে কাজ কমানো এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি স্কুল-কলেজ, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির এই পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে।
কসমিক ডেস্ক