হলিউডে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে The Devil Wears Prada 2। ডিজনির এই বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী ২৩৩.৬ মিলিয়ন ডলার আয় করে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম সিনেমার তুলনায় এই নতুন কিস্তি দর্শকদের কাছ থেকে আরও বড় সাড়া পাচ্ছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ছবিটির শক্তিশালী সূচনা নজর কেড়েছে। মুক্তির শুরুতেই দেশটির বক্স অফিস থেকে ৭৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে সিনেমাটি, যা আগের পর্বের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। এ বছরের বক্স অফিসে আয়ের দিক থেকে এটি চতুর্থ সেরা ওপেনিং হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ছবিটি নির্মাণ করেছে Twentieth Century Studios, যা ডিজনির অধীনস্থ একটি স্টুডিও। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত এই সিনেমার বড় একটি অংশ ব্যয় করা হয়েছে তারকাদের পারিশ্রমিকে। নির্মাতা David Frankel জানিয়েছেন, জনপ্রিয় অভিনেতাদের উপস্থিতিই ছবিটির অন্যতম বড় আকর্ষণ।
এই সিক্যুয়েলে আবারও ফিরে এসেছেন হলিউডের দুই তারকা Meryl Streep এবং Anne Hathaway। তারা তাদের আগের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মাঝে নস্টালজিয়া তৈরি করেছেন। দুই দশক আগের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করায় পুরনো ভক্তদের পাশাপাশি নতুন দর্শকরাও ছবিটির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ছবিটির সাফল্যের পেছনে অন্যতম কারণ হলো এর লক্ষ্যভিত্তিক দর্শকগোষ্ঠী। বিশেষ করে নারী দর্শকদের কাছে ছবিটির গল্প, চরিত্র এবং ফ্যাশনভিত্তিক উপস্থাপনা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফলে মুক্তির পরপরই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
দর্শকদের রেটিংয়েও ছবিটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। সমালোচকদের মতে, ড্রামা ও কমেডির মিশ্রণে তৈরি এই সিনেমাটি চলতি বছরের অন্যতম জনপ্রিয় “ড্রামেডি” হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। গল্পের গতি, অভিনয় এবং প্রোডাকশন ভ্যালু—সব মিলিয়ে এটি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এছাড়া, দীর্ঘ সময় পর জনপ্রিয় একটি গল্পের সিক্যুয়েল আসায় দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ আরও বেড়েছে। যারা ২০০৬ সালের মূল সিনেমাটি দেখেছিলেন, তারা নতুন কাহিনির মাধ্যমে পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দর্শকরাও এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’ শুধু একটি সফল সিক্যুয়েলই নয়, বরং এটি প্রমাণ করেছে যে সঠিক পরিকল্পনা ও শক্তিশালী কাস্ট থাকলে পুরনো গল্পকেও নতুনভাবে উপস্থাপন করে বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব। বক্স অফিসে এর ধারাবাহিক সাফল্য অব্যাহত থাকলে এটি বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক