জামায়াত স্বাধীনতারবিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে: আইনমন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জামায়াত স্বাধীনতারবিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে: আইনমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 1, 2026 ইং
জামায়াত স্বাধীনতারবিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে: আইনমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করেছে—এমন মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এবং সাম্প্রতিক আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই বিষয়টি এখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এই বিষয়টি নিয়ে এখন আর বিতর্কের অবকাশ নেই, কারণ সংসদে পাস হওয়া আইনের মাধ্যমে এটি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন আইন-২০২৬ বিল সংসদে উপস্থাপনের সময় জামায়াত এর বিরোধিতা করেনি। তার ভাষায়, তাদের এই নীরবতা এক ধরনের সম্মতির ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এনসিপি দল লিখিতভাবে এই আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

আইনমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দেশীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, এই সংজ্ঞার মাধ্যমে স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা শক্তিগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, আল-বদর, আল-শামস, রাজাকারসহ তৎকালীন কিছু রাজনৈতিক দল স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীকেও একই অবস্থানে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদে আইন পাস হওয়ার মাধ্যমে এই বিষয়টি এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত।

তবে এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, ইতিহাসের ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে ভিন্নমত দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান তুর্কি। তারা শ্রমিকদের অধিকার, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন।

সব মিলিয়ে, আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা এবং বর্তমান রাজনীতির ওপর আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত ফিলিপাইন, বন্ধ ৩৬৫ পাম্প

জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত ফিলিপাইন, বন্ধ ৩৬৫ পাম্প