এসএসসি-এইচএসসিতে নীরব বহিষ্কার ব্যবস্থা আর থাকছে না The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এসএসসি-এইচএসসিতে নীরব বহিষ্কার ব্যবস্থা আর থাকছে না

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 18, 2026 ইং
এসএসসি-এইচএসসিতে নীরব বহিষ্কার ব্যবস্থা আর থাকছে না ছবির ক্যাপশন:

পাবলিক পরীক্ষায় বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ‘নীরব বহিষ্কার’ ব্যবস্থা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা সরাসরি ও জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে অংশ নেন।

সভায় এক পর্যায়ে নীরব বহিষ্কার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা ওঠে। সেখানে উপস্থিত অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতভাবে এই ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ এবং বিভ্রান্তি কমানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালায় থাকা ১৯৬১ সালের একটি ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা এতদিন কার্যকর ছিল।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাসংক্রান্ত কোনো বিধিতে অপ্রয়োজনীয় বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু থাকতে পারে না। তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির সুযোগ নেই, তাই এই ধরনের ব্যবস্থা আর প্রয়োজনীয় নয়।

তিনি নির্দেশ দেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালায় সংশোধন আনা হবে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বস্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে কেন্দ্র সচিবদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ ২৯ বাতিল করা হয়েছে।

আগে এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার করলে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকত, তখন তাকে নীরবভাবে বহিষ্কার করা হতো। তবে পরীক্ষার পর আলাদা প্রতিবেদন তৈরি করে উত্তরপত্র পাঠানোর নিয়ম ছিল।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এই ধরনের ‘নীরব বহিষ্কার’ আর কার্যকর থাকবে না। ফলে পরীক্ষার সময় কোনো পরীক্ষার্থীকে এভাবে আলাদা করে বহিষ্কার করার সুযোগ থাকছে না।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীবান্ধব একটি পদক্ষেপ। এতে পরীক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে কম মানসিক চাপে পরীক্ষা দিতে পারবে এবং পরীক্ষার পরিবেশ আরও স্বাভাবিক থাকবে।

সব মিলিয়ে, পাবলিক পরীক্ষার নীতিমালায় এই পরিবর্তন শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও মানবিক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পরীক্ষাব্যবস্থা গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হঠাৎ সয়াবিন তেল সরবরাহে সংকট, বেড়েছে খোলা তেলের দাম

হঠাৎ সয়াবিন তেল সরবরাহে সংকট, বেড়েছে খোলা তেলের দাম