পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিএনপির আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার কোনো সুযোগ বা সম্ভাবনা তিনি দেখেন না।
শনিবার সকালে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রশ্নে সবাই এক অবস্থানে রয়েছে। তার ভাষায়, আওয়ামী লীগের বিষয়ে কেউ ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরলে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যেতে পারে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রশ্নে সবাই এক হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের প্রশ্নে কেউ ছাড় দেবে না। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে যদি আবার রাজনীতির সুযোগ পায়, তাহলে দেশটাকে নরক বানিয়ে ফেলবে—এটা কিন্তু আমার কথা না।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপের সময়ও আওয়ামী লীগের বিষয়ে একই ধরনের মতামত পাওয়া যায়। তার মতে, রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও ফ্যাসিবাদ বা কঠোর শাসনের প্রশ্নে সবাই একমত।
সভায় তিনি আরও কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল বা অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, তা তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দলের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার দলের নাম ভাঙিয়ে, আমার পাওয়ার দেখিয়ে কেউ ঘর দখল করবে, জমি দখল করবে, চাঁদাবাজি করবে, এটা আমি বরদাশত করব না।”
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি গলাচিপা ও দশমিনা এলাকায় কিছু রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মিছিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পরিবেশে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এলাকায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। কেউ অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মো. আলতাব খানের সঞ্চালনায় আরও কয়েকজন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোহরাব মিয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম খান, সাবেক ছাত্রনেতা ও অন্যান্য স্থানীয় নেতারা।
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ইস্যুতে এমন কঠোর মন্তব্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। তবে এখনো এ বিষয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কসমিক ডেস্ক