জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 29, 2026 ইং
জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী ৩৩তম দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তবে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস।

জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক ধাপ। রি-অ্যাক্টরের নকশা অনুযায়ী, মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি চুল্লির কেন্দ্রে স্থাপন করতে হবে, যা সম্পন্ন করতে প্রায় ৩০ দিন সময় লাগবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ধাপ বিশেষ মনিটরিংয়ের আওতায় রাখা হয়েছে।

লোডিং শেষে শুরু হবে ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ বা প্রাথমিক কার্যক্রম। এ পর্যায়ে নিউক্লিয়ার ফিশন বা পারমাণবিক বিভাজন প্রক্রিয়া চালু করা হবে এবং বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। এই ধাপ সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৩৪ দিন সময় প্রয়োজন।

এরপর ধাপে ধাপে রি-অ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রথমে ৩ শতাংশ, তারপর ৫, ১০, ২০ এবং ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। এই পুরো ধাপে সময় লাগবে প্রায় ৪০ দিন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রি-অ্যাক্টরের ক্ষমতা ৩ শতাংশে পৌঁছালেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট নাগাদ প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে একটি ইউনিট থেকে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটম। নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। এরপর বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে, যদিও একবার জ্বালানি লোড করলে প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি। তিনি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, বরং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল তৈরির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শত শত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পারমাণবিক বিষয়ে বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং এই প্রকল্পে কাজ করছেন।

প্রকল্পটির আর্থিক দিকও বেশ বড়। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করছে রাশিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধ করতে হবে। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম সুবিধা হলো কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কার্বন নিঃসরণ কম হওয়া। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশের গ্যাস ও কয়লার ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।

সব মিলিয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় মাইলফলক। যদিও পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে, তবে এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
শেরপুরের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা দরকার: মাহদী আমিন

শেরপুরের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা দরকার: মাহদী আমিন