বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সব খাতে কর ছাড় দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন Amir Khasru Mahmud Chowdhury। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ব্যবসা সহজীকরণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করবে।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে National Board of Revenue (এনবিআর)-এর পরামর্শক কমিটির এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, করনীতি এবং আসন্ন বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বকেয়া ও দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া এখনো পরিশোধ করতে হচ্ছে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয়ও সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু জ্বালানি খাতেই প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করতে হয়েছে, যা বাজেট ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে খুব হিসাব করে আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। তাই সব খাতে কর ছাড় দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, কর ছাড় না দিলেও ব্যবসা পরিচালনায় অন্যান্য সহায়তা বাড়ানো হবে, যাতে উদ্যোক্তারা সহজে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার মুক্তবাজার অর্থনীতির নীতিতেই এগোতে চায়। ব্যক্তিখাতকে শক্তিশালী করেই দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার ও গতিশীল করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। এ জন্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোকে বিশেষ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, ঠিক যেমনটি অতীতে তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি জানান, আসন্ন বাজেট প্রণয়নে শুধু আকারে বড় বাজেট নয়, বরং গুণগত মানসম্পন্ন বাজেট তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অতীতের মতো বড় প্রকল্পের আড়ালে অপচয় বা অনিয়মের পথ থেকে সরে এসে কার্যকর ও টেকসই উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
সভায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে FBCCI করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা এবং নারীদের জন্য সাড়ে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই প্রস্তাব নিয়ে সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সকল পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনেক দেশই করনীতি পুনর্বিন্যাস করছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রয়োজন, যেখানে একদিকে রাজস্ব আয় নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ব্যবসা ও বিনিয়োগও উৎসাহিত হবে।
সামগ্রিকভাবে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, সরকার এখন একদিকে অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে চায়, অন্যদিকে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। তাই সরাসরি কর ছাড় কম হলেও, নীতিগত সহায়তা ও প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল রাখার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক