ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-র বিরুদ্ধে চলমান মাদক ও সন্ত্রাসবাদ মামলায় নাটকীয় মোড় নিতে যাচ্ছে। তার একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হুগো কারভাহাল এখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-এর ব্রুকলিন কারাগারে বন্দি থাকা কারভাহাল মার্কিন সরকারের কাছে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তিনি তার অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে তদন্তে সহায়তা করতে আগ্রহী।
সিএনএন-এর হাতে আসা একটি চিঠি অনুযায়ী, কারভাহাল গত ডিসেম্বরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে লিখেছিলেন যে তিনি তার অপরাধের জন্য ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে চান। এতে তিনি দাবি করেন, মাদুরো প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অপরাধী পাঠিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল।
কারভাহালের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদুরো সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত গ্যাং ট্রেন দে আরাগুয়া-র সঙ্গে আঁতাত করে যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধী ও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এছাড়া ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামে পরিচিত একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কথাও উল্লেখ করেছেন কারভাহাল। এই সংগঠনটি মূলত উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত বলে দাবি করা হয়। তার অভিযোগ, এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মাদককে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারভাহালের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই ধারণাকে আরও জোরালো করছে যে তিনি মার্কিন কৌঁসুলিদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছেন। গত সপ্তাহে তার সাজা ঘোষণার শুনানি হঠাৎ স্থগিত করা হয় এবং ফেডারেল বন্দি ডাটাবেসে তার নামের অনুপস্থিতিও এই জল্পনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর এক অভিযানে কারাকাস থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস-কে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারভাহালের সাক্ষ্য মাদুরোর মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি তিনি সত্যিই রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন, তাহলে মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা সহজ হতে পারে এবং তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শুধু ভেনেজুয়েলা নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একসময়কার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর এই অবস্থান পরিবর্তন মাদুরোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কসমিক ডেস্ক