মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে গোপনে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ’র এক প্রতিবেদনে এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়। সেখানে গালিবফ বলেন, শত্রুপক্ষ প্রকাশ্যে আলোচনার আগ্রহ দেখালেও পর্দার আড়ালে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের যোদ্ধারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যদি মার্কিন সেনারা ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তাহলে তাদের কঠোর প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে একই দিনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সেনা ওই অঞ্চলে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই বাহিনী সাধারণত দ্রুত মোতায়েনযোগ্য এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে অংশ নিতে সক্ষম।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ USS Tripoli ইতোমধ্যে তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৌঁছেছে। তবে জাহাজটির নির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
যদিও মার্কিন সেনারা ঠিক কোথায় অবস্থান নেবে বা সম্ভাব্য অভিযান কোথায় পরিচালিত হতে পারে—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এতে করে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের কূটনৈতিক বক্তব্য ও সামরিক প্রস্তুতির সমান্তরাল অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি—এই দ্বৈত কৌশল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরানের এই অভিযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। আগামী দিনে এই উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের গভীর নজরদারিতে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক