পারমাণবিক ক্ষমতা থাকলে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয়: কানাডা-অস্ট্রেলিয়া The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পারমাণবিক ক্ষমতা থাকলে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয়: কানাডা-অস্ট্রেলিয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 5, 2026 ইং
পারমাণবিক ক্ষমতা থাকলে যুদ্ধবিরতি প্রযোজ্য নয়: কানাডা-অস্ট্রেলিয়া ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমবর্ধমান অবস্থায়, কানাডার প্রধানমন্ত্রী Mark Carney এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পক্ষে নন। ক্যানবেরায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করার প্রয়োজনীয়তা সত্ত্বেও এই অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

আলবানিজ সাংবাদিকদের বলেন, “বিশ্ব আশা করে যে উত্তেজনা হ্রাস পাবে, কিন্তু যেসব উপসাগরীয় দেশ এই সংঘাতে জড়িত নয়, তারাও হামলার শিকার হচ্ছে। বেসামরিক ও পর্যটন এলাকাতেও হামলা হয়েছে। আমরা চাই নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জিত হোক।” তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শান্তি ও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধ করা অপরিহার্য।

কার্নিও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, “সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে, আমরা তা স্বীকার করি। তবে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর আগে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এগুলোই যুদ্ধবিরতির অপরিহার্য শর্ত।”

উভয় নেতা শনিবার থেকে শুরু হওয়া Iran-Israel-US strikes–এর সমর্থন প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের উত্তরে যে, তারা কি ইরানের ওপর হামলায় যোগ দেবেন, কার্নি বলেন, “অংশগ্রহণের বিষয়টি পুরোপুরি বাতিল করা যায় না, তবে আমরা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করি। আমরা সব সময় কানাডিয়ানদের স্বার্থ রক্ষা করব এবং প্রয়োজনে আমাদের মিত্রদের পাশে দাঁড়াব।”

দু’জন নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যে কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে সেটি অবশ্যই নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণের সঙ্গে সমন্বয় হতে হবে। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রভাব এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখেই তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত নির্ধারণের পক্ষে মত দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে বেসামরিক ক্ষতি কমানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন, তবে পারমাণবিক সক্ষমতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি শান্তি আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির পথে এগোতে নারাজ।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই উত্তেজনা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার নেতারা তাদের দেশের নিরাপত্তা এবং মিত্র দেশগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

এই যৌথ বিবৃতি থেকে পরিষ্কার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও যুদ্ধবিরতির কার্যকর বাস্তবায়ন, তবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফিরছেন নিজের মাটিতে, ১৯ বছর পর বগুড়া সফরে তারেক রহমান

ফিরছেন নিজের মাটিতে, ১৯ বছর পর বগুড়া সফরে তারেক রহমান