আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক স্বীকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। আগামী ৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গোল্ড গালা ২০২৬-এ তাকে প্রদান করা হবে ‘গ্লোবাল ভ্যানগার্ড অনার’। আয়োজকদের মতে, গত আড়াই দশক ধরে এশীয় এবং পাশ্চাত্য বিনোদন জগতের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কার ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ২০০২ সালে তামিল ভাষার ‘থামিজান’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০০৩ সালে ‘দ্য হিরো: লাভ স্টোরি অব আ স্পাই’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিনয় দক্ষতা ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করে তিনি বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে জায়গা করে নেন।
তার ক্যারিয়ারে ‘ফ্যাশন’, ‘বার্ফি’, ‘মেরি কম’ এবং ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’-এর মতো চলচ্চিত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু দর্শকদের মন জয় করেননি, সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। বিশেষ করে চরিত্রের গভীরতা ও বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তার দক্ষতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
বলিউডে সফলতার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেন প্রিয়াঙ্কা। জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘কোয়ান্টিকো’র মাধ্যমে হলিউডে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর তিনি ‘সিটাডেল’ ও ‘দ্য ম্যাট্রিক্স রিসারেকশনস’-এর মতো বড় প্রজেক্টে কাজ করেন, যা তাকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে আরও পরিচিত করে তোলে। বর্তমানে তিনি নতুন সিরিজ ‘হুইটলি’ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা একজন সফল প্রযোজক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পার্পল প্যাবল পিকচার্স’ আঞ্চলিক ভাষার গল্পগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রযোজনায় নির্মিত ‘দ্য হোয়াইট টাইগার’ আন্তর্জাতিক অস্কার মনোনয়ন লাভ করে, যা তার প্রযোজনার সাফল্যের একটি বড় উদাহরণ।
এছাড়া তিনি গায়িকা ও লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন, যা তার বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দেয়। শুধু বিনোদন জগতেই নয়, সমাজসেবামূলক কাজেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তিনি শিশু অধিকার ও মেয়েদের শিক্ষার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এই কাজের জন্য তিনি বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছেন।
এর আগে প্রিয়াঙ্কা ভারতের ‘পদ্মশ্রী’সহ একাধিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তবে ‘গ্লোবাল ভ্যানগার্ড অনার’ তার অর্জনের তালিকায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এই সম্মান এমন ব্যক্তিদের দেওয়া হয় যারা বৈশ্বিক পর্যায়ে সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা বলেন, শিল্পের কোনো সীমানা নেই। ভাষা, ভূগোল বা সংস্কৃতি যাই হোক না কেন, একজন শিল্পীর স্বপ্ন সর্বজনীন। এই সম্মান তাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গোল্ড গালা ২০২৬-এ শুধু প্রিয়াঙ্কাই নন, আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন অ্যাকশন তারকা জেট লি, যিনি ‘গোল্ড লিজেন্ড অনার্স’ পাবেন, এবং সিমু লিউ, যিনি ‘গোল্ড মোগল অনার্স’ অর্জন করবেন।
সব মিলিয়ে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার এই নতুন স্বীকৃতি তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, প্রতিভা ও বৈশ্বিক প্রভাবেরই প্রতিফলন। বিনোদন জগতের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি যে একটি বৈশ্বিক আইকনে পরিণত হয়েছেন, এই সম্মান তারই প্রমাণ বহন করছে।
কসমিক ডেস্ক