গণভোটের প্রচারণায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে তৎকালীন গভর্নর Ahsan H Mansur-কে জিজ্ঞাসাবাদের আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক Sawgat Ali Sagar।
সম্প্রতি একটি ইউটিউব ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্যে সওগাত আলী সাগর বলেন, গণভোট একটি বিতর্কিত বিষয় ছিল এবং এখনো তা বিতর্কিত রয়ে গেছে। তার মতে, এই ধরনের রাজনৈতিক ইস্যুতে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানবহির্ভূত একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত Yunus Government একটি গণভোট আয়োজন করে এবং সেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে Bangladesh Bank থেকে এক কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষায়, “এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট পক্ষ নিয়েছে, যা একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ।” তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত নিরপেক্ষ থাকা।
এই প্রসঙ্গে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। প্রথমত, একটি বিতর্কিত ও সংবিধানবহির্ভূত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ প্রদান করতে পারে কি না। দ্বিতীয়ত, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে প্রচারণার জন্য সরকারি অর্থ ব্যবহার করা কতটা যৌক্তিক।
সওগাত আলী সাগর আরও বলেন, এই অর্থ প্রদানের সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন, সেটি স্পষ্ট হওয়া জরুরি। তার মতে, সেই সময়কার গভর্নর হিসেবে আহসান এইচ মনসুরের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।
তিনি অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের সাংবাদিকদেরও এই বিষয়ে অনুসন্ধানী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার কথা বলেন।
এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের অভিযোগের সঠিক তদন্ত হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টিও আরও জোরালোভাবে সামনে আসবে।
সব মিলিয়ে, গণভোটের মতো সংবেদনশীল রাজনৈতিক ইস্যুতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের প্রশ্নটি এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও সম্ভাব্য তদন্তের ওপর নির্ভর করবে এই বিতর্কের পরবর্তী গতি।
কসমিক ডেস্ক