দেশে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড)। বিপুলসংখ্যক ই-টিআইএনধারী থাকলেও অনেকেই নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন না, ফলে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে কর প্রশাসন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, যেসব টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেননি, তাদের কাছে ডাটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হবে। এরপরও রিটার্ন না দিলে কর পরিদর্শক সরাসরি গিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরে রিটার্ন জমা দিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা। অর্থাৎ ৮০ লাখের বেশি টিআইএনধারী এখনো রিটার্ন জমা দেননি।
আয়কর আইন অনুযায়ী, ই-টিআইএন থাকা সত্ত্বেও রিটার্ন জমা না দিলে করদাতাদের একাধিক ধরনের আইনি ও আর্থিক সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে জরিমানা, কর ছাড় বাতিল, অতিরিক্ত কর আরোপ, সরকারি সেবা বন্ধ এবং চাকরিজনিত জটিলতা।
১. জরিমানা আরোপ
আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুযায়ী রিটার্ন জমা না দিলে সর্বশেষ নির্ধারিত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা হয়, যা সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা। পাশাপাশি ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানা যোগ হয়।
২. কর ছাড় থেকে বঞ্চিত
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, কর অবকাশসহ বিভিন্ন কর সুবিধা বাতিল হয়ে যায়। যেমন সঞ্চয়পত্র বা নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করলেও কর ছাড় পাওয়া যাবে না।
৩. অতিরিক্ত কর
রিটার্ন দেরিতে জমা দিলে প্রতি মাসে ধার্যকৃত করের ওপর ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
৪. সরকারি সেবা বন্ধের ঝুঁকি
রিটার্ন না দিলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও অন্যান্য সরকারি পরিষেবার সংযোগে জটিলতা বা বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কর কর্মকর্তাদের এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
৫. চাকরিতে জটিলতা
সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় হলে আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক। রিটার্ন না দিলে বেতন-ভাতা প্রদানে জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং অফিসে রিটার্ন জমার প্রমাণ চাওয়া হয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও অনেকেই রিটার্ন না দেওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ফলে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় ও বাজেট বাস্তবায়নে চাপ বাড়ছে।
এনবিআর বলছে, কর ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল ও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে কর ফাঁকি রোধ করা যায় এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সম্ভব হয়।
সব মিলিয়ে, সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে শুধু জরিমানাই নয়, নাগরিক সেবায়ও বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে পারেন করদাতারা।
কসমিক ডেস্ক