ছয় দফা দাবিতে উত্তাল ঢাবি, রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করল কর্মচারীরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ছয় দফা দাবিতে উত্তাল ঢাবি, রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করল কর্মচারীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 30, 2026 ইং
ছয় দফা দাবিতে উত্তাল ঢাবি, রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করল কর্মচারীরা ছবির ক্যাপশন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছয় দফা দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি, চাকরির সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশাসনিক নীতিমালা নিয়ে অনিশ্চয়তা চললেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অবরুদ্ধ করে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেন। আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘কর্মচারী ঐক্যপরিষদ’ এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি হলো—আগামী ১৫ মের মধ্যে সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের পদ থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বা সমমানের পদে ১৮৭ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি সম্পন্ন করা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ঝুলে থাকায় প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে এবং কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

এছাড়া আন্দোলনকারীরা আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের পদোন্নতির আবেদন দ্রুত আহ্বান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির বয়সসীমা ৬২ বছরে উন্নীত করা, আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী বিদ্যমান সুবিধা বজায় রেখে পদোন্নতি নীতিমালায় নতুন সুবিধা সংযোজন, প্রশাসনিক ভবনের ক্যান্টিন পুনরায় চালু করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখা।

আন্দোলনকারীরা জানান, এসব দাবি শুধু ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার জন্য জরুরি। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি প্রক্রিয়া জটিলতার কারণে প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তারা আরও ঘোষণা দেন, দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী ৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ চালানো হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ এবং প্রক্টরের কাছেও আলাদা করে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে এক-তৃতীয়াংশ পদোন্নতি দেওয়া হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনটি ১৮৭ জনের সবাইকে পদোন্নতির দাবি করছে, যা নীতিগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আগের প্রশাসন বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট ভাইভা বোর্ডের মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখও নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ১০ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সভার পর তৎকালীন উপাচার্যের পদত্যাগের ঘোষণার কারণে পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি নতুন উপাচার্যের কাছে পুনরায় উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান রেজিস্ট্রার। তিনি বলেন, উপাচার্য সময় নির্ধারণ করলে ভাইভা বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে। রেজিস্ট্রারের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় তার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অসহযোগিতার সুযোগ নেই।

ঢাবির এই আন্দোলন এখন প্রশাসনিক জটিলতা, পদোন্নতি নীতি এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
অবৈধ তেল মজুদ ও বেশি দামে বিক্রি, বগুড়ায় জরিমানা

অবৈধ তেল মজুদ ও বেশি দামে বিক্রি, বগুড়ায় জরিমানা