তামাকজনিত মৃত্যুহার কমাতে দ্রুত আইন চান শিক্ষার্থীরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তামাকজনিত মৃত্যুহার কমাতে দ্রুত আইন চান শিক্ষার্থীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 18, 2026 ইং
তামাকজনিত মৃত্যুহার কমাতে দ্রুত আইন চান শিক্ষার্থীরা ছবির ক্যাপশন:

তামাকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নটর ডেম কলেজ-এ ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের দাবি’ শীর্ষক এক যুব সমাবেশে এ আহ্বান জানানো হয়।

নারী মৈত্রী ও নটর ডেম কলেজ সোশিও-ইকোনোমিক ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা বলেন, তরুণদের আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের নবযাত্রা শুরু হলেও তামাকের মরণছোবলে আজ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তরুণ সমাজ। তাই নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থেই নবগঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অনুমোদিত অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করা জরুরি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ও সোশিও-ইকোনোমিক ক্লাবের মডারেটর ফারজানা হোসেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি সংসদে পাস হয়ে আইনে পরিণত না হলে এর কার্যকারিতা সীমিত থাকবে।

সমাবেশে তুলে ধরা তথ্য অনুযায়ী, World Health Organization-এর টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা দৈনিক গড়ে ৫৪৫ জনের বেশি। তামাক ব্যবহারের ফলে বছরে প্রায় ৩৯ হাজার ২০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে কার্যত ‘তামাক মহামারী’-তে রূপ দিয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশোধিত অধ্যাদেশে নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের নিকোটিন দ্রব্যকে তামাকজাত পণ্যের আওতায় আনা হয়েছে। পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্টসের উৎপাদন, ব্যবহার ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন, ইন্টারনেটসহ যেকোনো মাধ্যমে বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রসার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা মুদ্রণের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

ফারজানা হোসেন বলেন, তামাক খাত থেকে বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও চিকিৎসা ব্যয়, উৎপাদনশীলতা হ্রাস ও অকালমৃত্যুর কারণে ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তাই জনস্বার্থে অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে রূপান্তর করা জরুরি।

তরুণদের পক্ষ থেকে মো. সাব্বির ফরাজী বলেন, তামাক কোম্পানিগুলোর প্রধান লক্ষ্য তরুণরা। একবার তামাকে আসক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে তারা ভোক্তা হিসেবে থেকে যায়। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার করেছে। তাই একটি তামাকমুক্ত দেশ গড়তে নবগঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি পাস করার দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে অধ্যাদেশটিকে কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর আইন হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
গোপালগঞ্জের তিন আসনই এবার বিএনপির দখলে

গোপালগঞ্জের তিন আসনই এবার বিএনপির দখলে