যশোরের Keshabpur উপজেলায় বোরো ধান কাটার মৌসুমে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী শ্রমবাজার, যেখানে প্রতিদিন ভোর থেকেই কৃষি শ্রমিকরা জড়ো হন নিজেদের শ্রম বিক্রির আশায়। তবে চলতি মৌসুমে শ্রমিক সংকট ও বাড়তি চাহিদার কারণে শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সোমবার ভোরে উপজেলার মূলগ্রাম বাজারে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। বিভিন্ন গ্রাম থেকে শ্রমিকরা কাঁচি, বাখ-দড়ি নিয়ে বাইসাইকেল, ভ্যান কিংবা স্থানীয় পরিবহনে করে এসে রাস্তার পাশে জড়ো হন। এরপর কৃষকরা দিনভিত্তিক চুক্তিতে শ্রমিক ‘কিনে’ নিয়ে যান নিজেদের জমিতে ধান কাটার জন্য।
বর্তমানে একজন শ্রমিকের মজুরি গড়ে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে, যা প্রায় দেড় মণ ধানের দামের সমান। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের লাভের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক আলাউদ্দীন জানান, তিনি এক বিঘা জমির ধান কাটার জন্য ২০ জন শ্রমিক নিয়েছেন, যাদের প্রত্যেককে ১৪০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। এই শ্রমিকরা সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ করবেন।
আরেক কৃষক রুহুল আমিন বলেন, “এখানে যেন মানুষ বেচাকেনা হয়। একদিন বা এক সপ্তাহের জন্য মানুষ বিক্রি হয়। দুই বিঘা জমির ধান কাটার জন্য শ্রমিক নিতে এসে দেখি জনপ্রতি ১৫০০ টাকা চাচ্ছে। কয়েকদিন আগেও ১৭০০-১৮০০ টাকায় শ্রমিক বিক্রি হয়েছে।”
ধান চাষি মফিজুর রহমানের অভিযোগ, “কাঠা প্রতি একজন শ্রমিক লাগছে, কিন্তু তারা ১৬০০-১৮০০ টাকা দাবি করছে। আমরা কৃষক কীভাবে বাঁচব? ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১০০০ থেকে ১১০০ টাকায়। এ অবস্থায় শ্রমিকের খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
অন্যদিকে শ্রমিকরাও বলছেন, মৌসুমভিত্তিক চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাদের মজুরি বেড়েছে। উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের শ্রমিক আব্দুল করিম জানান, তিনি ধান বহনের কাজের জন্য ১৬০০ টাকা দাবি করছেন, যেখানে অন্য সময়ে একই কাজের জন্য ৫০০ টাকাই পেতেন।
এদিকে স্থানীয় আড়ৎ ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে মোটা ধান ১০০০ টাকা এবং চিকন ধান ১০৮০ থেকে ১১০০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। অর্থাৎ ধানের বাজারমূল্য তুলনামূলক কম থাকায় কৃষকদের আয় কমছে, কিন্তু শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বছর কেশবপুরে বোরো ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তিনি জানান, ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকের চাহিদা বেশি থাকায় স্বাভাবিকভাবেই মজুরি বেড়ে যায়।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, কয়েকদিনের মধ্যেই কৃষকরা তাদের সব ধান ঘরে তুলতে পারবেন। তবে শ্রমিক সংকট এবং বাড়তি খরচ কৃষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তা তিনি স্বীকার করেন।
সব মিলিয়ে, কেশবপুরে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্যের এই অসমতা ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক