লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীর চরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজারো মানুষ প্রতিটি নির্বাচনের আগে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখেন। ভোট আসে, সরকার বদলায়—কিন্তু বাস্তবে তাদের জীবন অপরিবর্তিত থেকে যায়। নদীর বুকে জেগে ওঠা এসব চরে বছরপ্রতি বসবাস করেও মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত।
রায়পুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অংশে বিস্তৃত এই চরাঞ্চলে নদীভাঙন, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব এবং অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা চরবাসীর নিত্যসঙ্গী। উপজেলা শহর থেকে মোল্লারহাট, হাজিমারা, চান্দারকাল ও সাজু মোল্লার মাছঘাটে পৌঁছাতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে যাত্রাপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শিক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যা গুরুতর। চরাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় চড়ে মূল ভূখণ্ডে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নিতে সময় ও ঝুঁকি—দুটি বেড়ে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, চিকিৎসা সেবার অভাবে মাঝে মধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
নদীভাঙন চরবাসীর সবচেয়ে বড় আতঙ্ক। প্রতিবছরই মেঘনার ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গবাদিপশু হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হন। স্থায়ী বাঁধ বা কার্যকর নদীশাসন ব্যবস্থা না থাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করতে হয়।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা চরাঞ্চলে গিয়ে উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। রাস্তা নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণসহ প্রতিশ্রুতির আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু ভোট শেষ হলে সেসব বাস্তবায়ন দেখা যায় না।
চরবাসীরা দাবি করেন, স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলে জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র ও সরকারি সহায়তা বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ভোটের সময় চরবাসী স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু বাস্তবতা থেকে যায় অপরিবর্তিত। সরকার ও জনপ্রতিনিধি বদলায়, তবে মেঘনার চরের মানুষের জীবনসংগ্রাম যেন বদলায় না—এ প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে উত্তরহীন।