পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, নৌ অবরোধের কারণে ইরানের ৩৮টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থান থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে এই তথ্য প্রকাশ করা হয় সোমবার (২৭ এপ্রিল) ভোরে। পোস্টে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে সমুদ্রপথে ঘুরিয়ে তাদের মূল গন্তব্যে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।
তবে জাহাজগুলো ঠিক কোথায় আটকানো হয়েছে বা কোন অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সেন্টকম।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত দুই সপ্তাহ ধরে পারস্য ও ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যক্রম চলছে। এই সময়ের মধ্যে ইরানের জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ভারত মহাসাগরে ইরানের দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক ও তল্লাশি করেছে মার্কিন বাহিনী। এসব অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র “বিশ্বব্যাপী ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পারস্য উপসাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট, যেখান দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে যেকোনো সামরিক বা নৌ অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে বিভিন্ন সময় এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গেছে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা, তেল রপ্তানি ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ৩৮টি জাহাজ ফিরিয়ে দেওয়ার এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক