জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং ক্যাম্পাসে চলমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি এ বক্তব্য দেন।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সংসদ হলো জনগণের কথা বলার সর্বোচ্চ প্ল্যাটফর্ম। এখানে দাঁড়িয়ে সংসদ নেতার বিরোধিতা করা, সরকারের সমালোচনা করা এবং ভিন্নমত প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ থাকা উচিত। তিনি বলেন, “আমরা সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদ নেতার বিরোধিতা করতে চাই, সরকারের সমালোচনা করতে চাই। আমাদের সেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, মত প্রকাশের কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ জনকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন পরিস্থিতি গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকারের জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোর পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক সহিংসতা বা অস্থিরতার ক্ষেত্র বানানো উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশে ফিরতে চাই না যেখানে দমনের রাজনীতি চলে।” রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে কাউকে নির্মূল করার মানসিকতা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে কাউকে দমন বা নির্মূল করার রাজনীতি কোনোভাবেই দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। বরং এতে সমাজে বিভাজন তৈরি হয় এবং গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদে সকল সদস্যকে মুক্তভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সহনশীলতা বাড়ানো এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অধিবেশনে তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়। বিভিন্ন সদস্য বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার মত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে এমন বক্তব্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ক্যাম্পাস রাজনীতির বিষয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।a
কসমিক ডেস্ক