আ ন ম এহসানুল হক মিলন বর্তমান প্রজন্মের আচরণ, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের কার্যকলাপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ডিজিটাল যুগে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রবণতা এবং ভাইরাল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় তরুণদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সামনে তিনি তরুণ সমাজের আচরণগত পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম অনেক ক্ষেত্রেই কোনো বিষয় গভীরভাবে বিশ্লেষণ না করেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা এতটাই বেড়ে গেছে যে, অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্ম পরেও শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করে বসছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের আচরণ শুধু ব্যক্তিগত শালীনতার অভাব নয়, বরং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রবণতা ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত। কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। যদি তারা দায়িত্বশীলতা, শালীনতা এবং বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনা না শেখে, তাহলে তা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী একটি বড় সম্পদ। তবে এই সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারলে তা বোঝায় পরিণত হতে পারে। তাই তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং তাদের মধ্যে মূল্যবোধ গড়ে তোলা জরুরি বলে তিনি মত দেন।
মেধাস্বত্ব ও উদ্ভাবন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো সন্তোষজনক নয়। দেশের অনেক উদ্ভাবন বিদেশে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও দুর্বলতার কারণে উদ্ভাবকদের অনেক সময় দেশে যথাযথ স্বীকৃতি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া ব্রেইন ড্রেইনের বিষয়টিও তিনি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধু মেধা পাচার রোধ করাই নয়, বরং রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অর্থাৎ দেশের মেধাবীরা যেন বিদেশে না গিয়ে বা বাইরে থেকে ফিরে এসে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
কর্মশালায় মেধাস্বত্ব, উদ্ভাবন এবং ক্রীড়া খাতকে একত্রে উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই খাতগুলো সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
সবশেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ জনসংখ্যার তুলনায় এখনো অনেক কম। এই অবস্থার উন্নয়ন করতে হলে শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কসমিক ডেস্ক