প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন আরেকটি মেসেজিং অ্যাপ যুক্ত হলো ইলন মাস্কের হাত ধরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X এখন তাদের আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা একটি মেসেজিং অ্যাপ চালু করেছে, যার নাম ‘এক্সচ্যাট’ (XChat)।
নতুন এই অ্যাপটি সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম WhatsApp-এর সঙ্গে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বর ছাড়াই এক্স অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে যোগাযোগ করতে পারবেন।
নতুন এই সেবায় রয়েছে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন, যার ফলে বার্তা নিরাপদ থাকবে এবং তৃতীয় পক্ষ তা পড়তে পারবে না। এছাড়া ভয়েস কল, ভিডিও কল এবং ফাইল শেয়ারিংয়ের সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে।
অ্যাপটিতে আরও রয়েছে ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ, মেসেজ এডিট করার সুযোগ এবং স্ক্রিনশট ব্লক করার মতো আধুনিক নিরাপত্তা ফিচার। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি বিজ্ঞাপনবিহীন একটি নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহার অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটি উন্মুক্ত করা হয়। এর আগে সীমিত ব্যবহারকারীদের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু ছিল। সেই পর্যায়ের ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে অ্যাপটি আরও উন্নত করা হয়েছে।
এই নতুন অ্যাপটি ইলন মাস্কের বৃহত্তর প্রযুক্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে X-কে একটি “সবকিছু এক অ্যাপে” রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিলেন, যেখানে মেসেজিং, পেমেন্ট, কনটেন্ট শেয়ারিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে থাকবে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানির কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। এখন বিভিন্ন সেবাকে আলাদা আলাদা অ্যাপে ভাগ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এক্সচ্যাটকে শুধু মেসেজিং হাব হিসেবে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, পেমেন্ট সিস্টেম নিয়েও আলাদা একটি ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চলছে, তবে সেটি এখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ প্রযুক্তি বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। কারণ মেসেজিং অ্যাপের বাজারে ইতোমধ্যে শক্ত অবস্থানে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বেশ কয়েকটি বড় প্ল্যাটফর্ম।
তবে এক্সচ্যাটের বড় সুবিধা হলো এটি সরাসরি এক্স অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত, ফলে ব্যবহারকারীদের আলাদা নম্বর বা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে না।
এছাড়া নিরাপত্তা ফিচার এবং মাল্টি-মিডিয়া সুবিধার কারণে এটি তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইলন মাস্কের এই নতুন উদ্যোগ প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন প্রতিযোগিতার সূচনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, এক্সচ্যাট কতটা দ্রুত হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্রতিষ্ঠিত প্ল্যাটফর্মকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হয়।
কসমিক ডেস্ক