ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের দখলে তেলবাহী জাহাজ, নাবিক জিম্মি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের দখলে তেলবাহী জাহাজ, নাবিক জিম্মি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 25, 2026 ইং
ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের দখলে তেলবাহী জাহাজ, নাবিক জিম্মি ছবির ক্যাপশন:

আবারও জলদস্যুদের তৎপরতায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত মহাসাগরের সোমালিয়া উপকূল। এবার সশস্ত্র জলদস্যুরা একটি তেলবাহী ট্যাংকার ছিনতাই করে ১৭ জন নাবিককে জিম্মি করেছে বলে জানিয়েছে একাধিক নিরাপত্তা সূত্র।

ছিনতাই হওয়া জাহাজটির নাম ‘অনার ২৫’। বুধবার গভীর রাতে ছয়জন সশস্ত্র জলদস্যু জাহাজটি দখল করে নেয়। সে সময় এটি সোমালিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।

জাহাজটি ১৮ হাজার ৫০০ ব্যারেল তেল বহন করছিল এবং সোমালিয়ার রাজধানী Mogadishu-এর দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, জাহাজটি আগে সোমালিল্যান্ডের বারবেরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং বিভিন্ন রুট অতিক্রম করে গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন এই অঞ্চলে জ্বালানি সংকট ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই অস্থির। স্থানীয় সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে মোগাদিসুতে জ্বালানির দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা নতুন করে এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

জিম্মি থাকা নাবিকদের মধ্যে রয়েছেন ১০ জন পাকিস্তানি, ৪ জন ইন্দোনেশীয়, একজন ভারতীয়, একজন শ্রীলঙ্কান এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক। ফলে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, জলদস্যুরা সম্ভবত সোমালিয়ার দুর্গম উপকূলীয় এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। পরে আরও পাঁচজন সশস্ত্র ব্যক্তি জাহাজে উঠে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়, ফলে পুরো জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সহজ হয়।

বর্তমানে ছিনতাই হওয়া জাহাজটি সোমালিয়ার উপকূলীয় মাছ ধরার শহর জাফুন ও বান্দার বেইলার মাঝামাঝি এলাকায় নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জাহাজটি কীভাবে থামানো হলো বা কীভাবে দখলে নেওয়া হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

একসময় সোমালিয়া উপকূল ছিল বিশ্বজুড়ে জলদস্যুতার জন্য কুখ্যাত। তবে গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর তৎপরতায় এই ঘটনা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবারও জলদস্যুদের সক্রিয়তা বাড়তে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা শিথিলতা, স্থানীয় অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা—এই তিনটি কারণে আবারও জলদস্যুতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

এদিকে এখনো পর্যন্ত সোমালিয়ার কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত নয়।

মেরিটাইম নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা শুধু নাবিকদের জীবনই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ ভারত মহাসাগর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন করা হয়।

সব মিলিয়ে এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, ৪ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা