চট্টগ্রামে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি রেণু জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শাহ আমানত সেতুর আশপাশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে টেকনাফ থেকে আসা খুলনাগামী দুটি ট্রাক তল্লাশি করে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের চিংড়ি রেণু উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ডের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন দুটি ট্রাককে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় ট্রাক দুটির ভেতরে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি রেণু পাওয়া যায়, যার পরিমাণ আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ পিস।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রেণুগুলো টেকনাফ এলাকা থেকে সংগ্রহ করে খুলনার দিকে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। এ ধরনের অবৈধ পরিবহন দেশের মৎস্য সম্পদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযানের সময় ট্রাকচালক ও হেলপারদের আটক না করে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানানো হয়। তবে জব্দ করা চিংড়ি রেণুগুলো পরে দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্ণফুলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কর্ণফুলী নদীতে অবমুক্ত করা হয়। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে রেণু নদীতে ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়তা হয়।
বাংলাদেশে চিংড়ি শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে হাজারো মানুষ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে অবৈধভাবে রেণু আহরণ ও পরিবহন দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অল্প বয়সী চিংড়ি রেণু ধরা এবং বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হলে প্রাকৃতিক প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, যা ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
কোস্টগার্ড জানায়, দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ মাছ আহরণ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল ও নদীপথে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের পাচার কার্যক্রম রোধ করা যায়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যে কোনো ধরনের অবৈধ মৎস্য সম্পদ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের মৎস্য সম্পদ সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ রেণু পাচার অনেকাংশে কমে আসবে এবং দেশের মৎস্য সম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে